এশিয়ায় জ্বালানি তেল বিক্রিতে মূল্যছাড় দিতে পারে সৌদি আরব

বিশ্বব্যাপী কমছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। তার জের ধরে এশিয়ার দেশগুলোয় পণ্যটি বিক্রিতে মূল্যছাড় দিতে পারে সৌদি আরব।

বিশ্বব্যাপী কমছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। তার জের ধরে এশিয়ার দেশগুলোয় পণ্যটি বিক্রিতে মূল্যছাড় দিতে পারে সৌদি আরব। শুক্রবার কিছু ব্যবসায়ী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

রয়টার্স পরিচালিত এক জরিপে এশিয়ার পরিশোধনকারী কোম্পানির চার সূত্র জানায়, এপ্রিলে সৌদি আরবের প্রধান গ্রেড আরব লাইট জ্বালানি তেলের অফিশিয়াল সেলিং প্রাইস (ওএসপি) মার্চের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ২০ সেন্ট থেকে ৬৫ সেন্ট পর্যন্ত কমতে পারে। এতে এ সময় আরব লাইটের দাম ওমান ও দুবাইয়ের দামের গড়ের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলার ২৫ সেন্ট থেকে ৩ ডলার ৭০ সেন্ট মূল্য সংযোজন করে বেচাকেনা হতে পারে, যা মার্চের ৩ ডলার ৯০ সেন্টের তুলনায় কম।

এর আগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়। ফলে এশিয়ার ক্রেতারা মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য অঞ্চল থেকে সংগ্রহ বাড়াতে থাকে। তাই ফেব্রুয়ারি ও মার্চের জন্য জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছিল সৌদি আরব।

জরিপে আরো বলা হয়েছে, আরব এক্সট্রা লাইট ও আরব মিডিয়াম গ্রেডের মার্চের ওএসপি অন্তত ৬৫ সেন্ট কমতে পারে। এছাড়া আরব হেভি গ্রেডের দাম কমতে পারে ১০-৬৫ সেন্ট পর্যন্ত।

সৌদি আরবে জ্বালানি পণ্যের দাম সাধারণত প্রথম ও তৃতীয় মাসের দুবাই মূল্যের পার্থক্যের (ব্যাকওয়ার্ডেশন) পরিবর্তন অনুসরণ করে। ফেব্রুয়ারিতে দুবাই ব্যাকওয়ার্ডেশন আগের মাসের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ৭ সেন্ট কমেছে।

ব্যাকওয়ার্ডেশন হলো এমন একটি বাজার পরিস্থিতি যখন তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহ করা জ্বালানি তেলের দাম ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্যের তুলনায় বেশি হয়। এমন পরিস্থিতি সাধারণত সরবরাহ সংকট বা বাড়তি চাহিদার ইঙ্গিত দেয়।

এদিকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গত সপ্তাহের লেনদেনের শেষদিনে কমেছে। আগের দিনের তুলনায় ৮৬ সেন্ট বা ১ দশমিক ১৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি মূল্য স্থির হয়েছে ৭৩ ডলার ১৮ সেন্টে। অন্যদিকে মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৬৯ ডলার ৭৬ সেন্টে স্থির হয়েছে, যা এর আগের দিনের তুলনায় ৫৯ সেন্ট বা দশমিক ৮৪ শতাংশ কম।

এ বিষয়ে সাক্সো ব্যাংকের হেড অব কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি ওলে হ্যানসেন বলেন, ‘ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের কারণে বাণিজ্যযুদ্ধ আরো বাড়তে পারে। এতে বৈশ্বিক আর্থিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি সাধারণত মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে। ফলে সামনের দিনগুলোয় জ্বালানি তেলের চাহিদা আরো কমে যাবে।’

আরও